Blog Post

The Cube > News > জাতীয় > নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দ্রুত এগোচ্ছে, জাতীয় উদ্বেগ ও আন্দোলন তীব্র

নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দ্রুত এগোচ্ছে, জাতীয় উদ্বেগ ও আন্দোলন তীব্র

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যখন সারাদেশ ভোটমুখী পরিবেশে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রাম বন্দরের একের পর এক কন্টেইনার টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। লালদিয়া চর কন্টেইনার টার্মিনাল ডেনমার্কের এবং পানগাঁও নৌ টার্মিনাল সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানের কাছে হঠাৎ সিদ্ধান্তে হস্তান্তরের পর এখন একই গতিতে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালও এর আগে বিদেশি কোম্পানির অধীনে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনালের পর আরও চারটি কন্টেইনার টার্মিনাল ৩০–৪৮ বছরের ইজারায় দেওয়ার উদ্যোগে সরকার, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিদেশি অপারেটররা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এর ফলে ভবিষ্যতে জেনারেল কার্গো বার্থ ছাড়া বন্দরের কন্টেইনার অপারেশনে দেশীয় নিয়ন্ত্রণ প্রায় শেষ হয়ে যাবে।

এনসিটি হলো বন্দর নির্মিত সবচেয়ে আধুনিক ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টার্মিনাল। নিজস্ব অর্থায়নে গড়া এই স্থাপনাটি বহু বছর ধরে বন্দরের আয় ও সক্ষমতার বড় অংশ সরবরাহ করে আসছে। তবু দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ৩০ বছরের ইজারা চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ায় মঙ্গলবার চট্টগ্রামে বিএনপি-সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিশাল মশাল মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তাদের অভিযোগ—এনসিটি হস্তান্তর হলে বিদেশি কোম্পানি বছরে অন্তত ১১০০ কোটি টাকা নিয়ে যাবে, আর মাশুল বাড়লে এই অঙ্ক আরও বৃদ্ধি পাবে।

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্ব থেকেও অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও গোপন চুক্তি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলছে, বন্দরের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি—সবই এ সিদ্ধান্তে ঝুঁকির মুখে পড়বে। দেশীয় শ্রমিক-কর্মচারী জোট স্কপ ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে।

এনসিটিকে বিদেশিদের হাতে দেওয়ার বিরুদ্ধে শহরজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ বন্দর এলাকায় সমাবেশ–মিছিলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে।

গত ১৬ বছর ধরে এনসিটি বন্দর আয়ের ৬০ শতাংশ জোগান দিচ্ছে এবং মোট কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় অর্ধেক পরিচালনা করছে। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালনার পর টার্মিনালের দক্ষতা ২৭ শতাংশ বেড়েছে এবং ব্যবহারকারীদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অবস্থান, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও জাতীয় নিরাপত্তার কারণে এনসিটিকে বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তর ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রতিবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দাবি, আগের সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত নতুন সরকার কেন বাস্তবায়ন করছে—তা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের আহ্বান, বন্দর পরিচালনায় দেশীয় দক্ষ জনবলই যথেষ্ট, প্রয়োজন শুধু নীতি-স্বচ্ছতা ও ব্যবস্থাপনার সঠিক দিকনির্দেশনা।

অস্বচ্ছ এবং দরপত্রবিহীন চুক্তির বিরোধিতা করে জমায়াতসহ বিভিন্ন পক্ষ বলছে—চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু; এখানে কোনো গোপন ইজারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *