জর্ডান নিলের মিডল–লেগ লাইনের লেন্থ ডেলিভারিটি স্কয়ার লেগে ঠেলে একটি সিঙ্গেল নিলেন মুশফিকুর রহিম—এতেই পূরণ হলো দীর্ঘ প্রতীক্ষা। আগের দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে যে সেঞ্চুরির অপেক্ষা তৈরি হয়েছিল, সেটিই ভোরের দ্বিতীয় ওভারেই বাস্তবায়িত হলো। একই সঙ্গে সমান ১৩ টেস্ট সেঞ্চুরিতে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন মুমিনুল হককে।
এত বিশেষ উপলক্ষেও মুশফিকের উদযাপন ছিল স্বভাবগতভাবেই সংযত। তবে পরিসংখ্যান বলছে—এই অর্জন কতটা বিরল। তার আগে বিশ্বের মাত্র ১০ জন ব্যাটার শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন; এখন সেই গৌরবময় তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশের নামও।
ইংলিশ ব্যাটার কলিন কাউড্রে ১৯৬৮ সালে প্রথম এই রেকর্ড গড়েন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০৪ রান করে। দুই দশক পর পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ ভারতের বিপক্ষে ১৪৫ রান করে তালিকায় নাম লেখান। এরপর গর্ডন গ্রিনিজ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, ইনজামাম-উল-হক—একজনের পর আরেকজন তাদের শততম ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ক্লাবটি সমৃদ্ধ করেন।
সবচেয়ে ব্যতিক্রমী কীর্তিটি আসে রিকি পন্টিংয়ের ব্যাট থেকে। ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করে অনন্য ইতিহাস তৈরি করেন—১২০ ও ১৪৩ রান। পরবর্তী সময়ে গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, জো রুট এবং ডেভিড ওয়ার্নার শততম টেস্টে অসাধারণ ইনিংস খেলে এই তালিকায় আলো যোগ করেন—কেউ সেঞ্চুরি, কেউ আবার ডাবল সেঞ্চুরিও করেন।
বাংলাদেশের ইনিংসেও মুশফিক ছিলেন চাপ সামাল দেওয়ার নায়ক। ৯৫ রানে তিন উইকেট পড়ে যখন দল বিপাকে, তখন মুমিনুল হকের সঙ্গে তার শতরানের জুটি পরিস্থিতি বদলে দেয়। পরে লিটন দাসকে নিয়ে এগিয়ে যান আরও বড় সংগ্রহের দিকে।
তিন অঙ্কে পৌঁছালেও ইনিংস দীর্ঘায়িত করতে পারেননি তিনি। ম্যাথিউ হ্যামফ্রেসের ডেলিভারিতে আউটসাইড এজ হয়ে ফেরেন ১০৬ রানে। ২১৪ বলে পাঁচ বাউন্ডারির সেই পরিপাটি ইনিংসে গড়া পঞ্চম উইকেটের ১০৮ রানের জুটিও তার বিদায়ের সঙ্গে ভেঙে যায়।